বড় সাতটি সরকারি কলেজ : ২ লাখ শিক্ষার্থী বিপদে

Ajijul Islam এপ্রিল ১৯, ২০১৭ Technology

 

রুপন চক্র বর্ত্তী : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর বড় সাতটি সরকারি কলেজ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়েছে। কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলেও এখনো সিলেবাস বা পাঠ্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সিলেবাসবিহীন অবস্থায়ই পড়ালেখা করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের সেশনজটে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অধিভুক্ত হওয়ার পর পরীক্ষা, ক্লাসসহ সার্বিক লেখাপড়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্যেও দ্বন্দ্বের বিষয়টি ফুটে ওঠে। সরকার যখন সরকারি কলেজ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিতে চায় তখন থেকেই রাজধানীর নামি কলেজগুলো নিজেদের আয়ত্তে নিতে উঠেপড়ে লাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি একবার অনার্সের খাতা নিলেও অসুস্থতার কারণে দেখতে পারেননি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, দ্রুত যেন খাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর পক্ষে খাতা দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু মাসখানেক পার হলেও কেউ খাতার ব্যাপারে খোঁজ নেয়নি। এর কিছুদিন পরেই ফলাফল দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তখন অদেখা অবস্থায় কয়েক শ খাতা ওই শিক্ষকের বাসায় পড়ে ছিল। এই হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার অবস্থা। আগেও এই কলেজগুলো আমাদের অধীনে ছিল। ফলে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা সব কিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার চেষ্টা করছি। যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি আছে শিগগির আমরা তা নেওয়ার চেষ্টা করব। আর নতুন পরীক্ষার তারিখও দ্রুত ঘোষণা করা হবে। আমরা অনার্স চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা নিয়েছি, ব্যবহারিক নেওয়ারও সময় দেওয়া হলো না। আমরা সেগুলো প্রস্তুত করছি। প্রথম দিকে তো কিছুটা সমস্যা হবেই। আশা করি, আস্তে আস্তে সেটা তারা উতরে যবে। জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই, ৩ জানুয়ারি। শেষ হয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ব্যবহারিক শুরুর আগেই কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যায়। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থাকা অন্য কলেজগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত ও প্রাইভেট (নতুন সিলেবাস) এমএ, এমএসএস, এমবিএ, এমএসসি ও এম মিউজ শেষ পর্ব পরীক্ষার রুটিনও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছে। ২০১৬ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। তারা এই পরীক্ষায় অংশও নিতে পারছে না। তাদের জন্য নতুন সিলেবাসে পড়ালেখা করাটা কঠিন। সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি অনার্স কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসেই আমি দুটি বর্ষ শেষ করেছি। এখন যদি আমাকে নতুন করে সিলেবাস দেয় তাহলে তার সঙ্গে তাল মেলানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর ওপর যোগ হয়েছে আরো সাত কলেজের দুই লাখ শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা, ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি, ফরম পূরণ, একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের বড় ধরনের জনবল দরকার। কিন্তু এই আয়োজন এখনো শুরুই করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নাম প্রকাশ না করে রাজধানীর একটি সরকারি কলেজের একজন বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘সাধারণত কোনো কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আব্দুল্লাহ আল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাত কলেজের দায়িত্ব যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে তাই পুরো দায়দায়িত্বই তাদের। তাদেরই উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত করণীয় ঠিক করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *